বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
ধলিয়ার জলে ফুল ভাসিয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যের সূচনায় মাতল ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী, পাহাড়জুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ।
কেফায়েত উল্লাহ খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি
ধলিয়ার জলে ফুল ভাসিয়ে শুরু হয়েছে মস্টিরাঙ্গা’র ত্রিপুরাদের বৈসু উৎসব। আজ সকালের দিকে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সদস্যরা গঙ্গা মায়ের আশীর্বাদ প্রার্থনা করে ধলিয়া’র জলে ফুল ভাসানোর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের উদ্যোগে সকাল ৮ ঘটিকার দিকে ধলিয়া খালের তপ্ত মাস্টার এলাকায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য প্রফেসর (অব) প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু মনীন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের সভাপতি কীর্তি ভূষণ ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফুল ভাসানো অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাবু ললিত কুমার ত্রিপুরা, তপ্ত বিকাশ ত্রিপুরা, সুনি ত্রিপুরা, বীর মোহন ত্রিপুরা, হারভি ত্রিপুরা, বরন বিকাশ ত্রিপুরা, মনো বিকাশ ত্রিপুরা, ডলি ত্রিপুরা, দ্বিজেন ত্রিপুরা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রফেসর প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা বলেন, আমাদের অনাগত দিনগুলো যেন ভালো কাটে। আমরা যেন সবার মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ যাতে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ কর্তৃক প্রথমবারের মতো এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহবান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি বাবু মনীন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা বলেন, ফুল হচ্ছে পবিত্রতার প্রতীক। আজকের দিনে আমাদের অঙ্গিকার হোক পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখা।
সভাপতির বক্তব্যে কীর্তি ভূষণ ত্রিপুরা বলেন, ‘বৈসাবি’ বিহু, বিজু, বিষু, বৈসু, চাংক্রান, সাংক্রান, সাংগ্রাইন, সাংগ্রাইং উৎসব উদযাপন এবং বাংলা নববর্ষ উৎসবে সবাই অংশ গ্রহণ করে থাকে। দল ও মতের উর্ধ্বে ওঠে পাহাড়ি -বাঙালি সবাইকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মাঝে মিলেমিশে থাকতে হবে।
বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থী নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে। পুরোহিত মন্ত্র পাঠ করে গঙ্গা মায়ের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা পরিচালনা করেন।
উল্লেখ্য, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নববর্ষ উৎসব ” বৈসু ”। চৈত্র মাসের শেষ দুইদিন এবং বৈশাখ মাসের প্রথম দিন তিনদিনব্যাপী এ উৎসব পালন করা হয়। প্রথম দিনকে বলা হয় হারি বৈসু, দ্বিতীয় দিনকে বৈসুমা এবং তৃতীয় বা শেষ দিনটিকে বলা হয় বিসিকতাল। মূলত আগামী দিনের সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা হয়।